শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে মেয়াদবিহীন পাউরুটি, নিম্নমানের কলা সরবরাহের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
- / ৫১৬ Time View
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে মেয়াদবিহীন পাউরুটি ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে মেসার্স তুলী এন্টারপ্রাইজ নামে হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রবিবার (৩১ মে) ৫০শয্যা বিশিষ্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকালের নাশতা হিসেবে রোগীদের মাঝে মেয়াদবিহীন পাউরুটি, নিন্মমানের কলা এবং পরিমাণে কম খাবার সরবরাহ করার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। খাবার সরবরাহে অনিয়ম ও তদারকির ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন তারা। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহে এমন অবহেলা এবং অনিয়মের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
চিকিৎসাধীন ডায়েরিয়ার রোগী আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমি ডায়েরিয়া নিয়ে গতকাল থেকে হাসপাতালে ভর্তি। এখানে সকালে নাশতা হিসেবে আমাকে মেয়াদবিহীন একটি পাউরুটি ও পঁচা কলা দেওয়া হয়েছে। পাউরুটি মুখে দেওয়ার পর দুর্গন্ধে আমার মুখে বমি চলে আসছে। পরে এটি না খেয়ে রেখে দিয়েছি। পাউরুটির পেকেটে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সিল বা কোনো তারিখ নেই।
দিপালী নামে এক চা শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, সকালের নাশতা হিসেবে একটি কলা এবং সিল ও তারিখবিহীন বনরুটি পেয়েছি।
রোগীদের স্বজনরা জানান, একজন অসুস্থ মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার অত্যন্ত প্রয়োজন। পাউরুটিতে কোনো সিল বা উৎপাদনের তারিখ ছিল না এবং কিছু কলা ছিল পঁচা ও নিম্নমানের। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফয়সল নামে এক শিশুর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, আমার ৪ বছরের শিশুকে নিয়ে এখানে ভর্তি। রবিবারের সকালে আমাদের শিশু ওয়ার্ডে থাকা প্রতিটি রোগীকে এক পিস করে নিম্নমানের কলা এবং মেয়াদবিহীন পাউরুটি দেওয়া হয়েছে। অথচ পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডে দুই পিস করে কলা দেওয়া হয়েছে। এমন অনিয়ম হাসপাতালে চলছে।
জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত নাওয়াল মুমু বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে মেসার্স তুলী এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী পাকিজ মিয়া বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে
জানান, লোকাল বেকারি থেকে পাউরুটি সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তাতে সিল ও তারিখ ছিল না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














