০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বাদশাগঞ্জ বাজারে জায়গা দখল ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২, আটক ৪*  

dailydurbin
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / ৫১৮ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:  সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হামলার শিকার হয় পুলিশও। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

রোববার, ৩১ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজারের একটি জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া ও উত্তরবীর গ্রামের আনার মিয়ার মধ্যে। উভয়েই ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। বিরোধপূর্ণ স্থানে তাদের আলাদা দোকান রয়েছে এবং ভাড়াটিয়া বসানো হয়েছে।

 

রোববার সকালে আনার মিয়া লোকজন নিয়ে দুই দোকানের মধ্যবর্তী সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেললে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সোনা মিয়ার পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

আহতদের তালিকায় পুলিশ-সাংবাদিক

সংঘর্ষে তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া, লিটন মিয়া, নুরুল হুদা, ওয়াহিদ, আনোয়ার তালুকদার, আনার মিয়া, পারভেজ, নির্মল, আরফিন এবং স্থানীয় সাংবাদিক মো. মিঠু মিয়াসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের প্রথমে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

 

ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার পথে পুলিশের ওপরও হামলা চালায় উভয় পক্ষের কিছু লোক। এতে পুলিশ সদস্য মো. গাজিউল, বিপ্লব ও সেলিম আহত হন।

 

আহত সোনা মিয়া বলেন, “১৯৯৬ সালে আমি ও চকিয়াচাপুরের একজন মিলে এই জায়গা ক্রয় করি। আনার মিয়া ২০২০ সালে এর একটি অংশ কিনে আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে। হামলা চালিয়ে আমার ঘরের তালা ভেঙে দুই লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় আমাকে ও আমার ছোট ভাই লিটনসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।”

 

আনার মিয়া পুলিশের হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মো. মিঠু মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষের মারামারি থামাতে গিয়ে আমি নিজেই আহত হই।”

 

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদ উল্ল্যা জানান, “ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সহকারী পুলিশ সুপার এস এম ফজলে রাব্বী রাজিব বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তরবীর গ্রামের আনার মিয়া, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের শিহাব উদ্দিনের ছেলে শ্যামল, আরফিন ও পারভেজ মিয়া।

 

ঘটনার পর বাজারে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাদশাগঞ্জ বাজারে জায়গা দখল ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২, আটক ৪*  

আপডেট সময় : ০২:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:  সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হামলার শিকার হয় পুলিশও। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

রোববার, ৩১ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজারের একটি জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া ও উত্তরবীর গ্রামের আনার মিয়ার মধ্যে। উভয়েই ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। বিরোধপূর্ণ স্থানে তাদের আলাদা দোকান রয়েছে এবং ভাড়াটিয়া বসানো হয়েছে।

 

রোববার সকালে আনার মিয়া লোকজন নিয়ে দুই দোকানের মধ্যবর্তী সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেললে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সোনা মিয়ার পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

আহতদের তালিকায় পুলিশ-সাংবাদিক

সংঘর্ষে তাহের উদ্দিন সোনা মিয়া, লিটন মিয়া, নুরুল হুদা, ওয়াহিদ, আনোয়ার তালুকদার, আনার মিয়া, পারভেজ, নির্মল, আরফিন এবং স্থানীয় সাংবাদিক মো. মিঠু মিয়াসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের প্রথমে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

 

ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার পথে পুলিশের ওপরও হামলা চালায় উভয় পক্ষের কিছু লোক। এতে পুলিশ সদস্য মো. গাজিউল, বিপ্লব ও সেলিম আহত হন।

 

আহত সোনা মিয়া বলেন, “১৯৯৬ সালে আমি ও চকিয়াচাপুরের একজন মিলে এই জায়গা ক্রয় করি। আনার মিয়া ২০২০ সালে এর একটি অংশ কিনে আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে। হামলা চালিয়ে আমার ঘরের তালা ভেঙে দুই লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় আমাকে ও আমার ছোট ভাই লিটনসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।”

 

আনার মিয়া পুলিশের হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মো. মিঠু মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষের মারামারি থামাতে গিয়ে আমি নিজেই আহত হই।”

 

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদ উল্ল্যা জানান, “ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সহকারী পুলিশ সুপার এস এম ফজলে রাব্বী রাজিব বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তরবীর গ্রামের আনার মিয়া, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের শিহাব উদ্দিনের ছেলে শ্যামল, আরফিন ও পারভেজ মিয়া।

 

ঘটনার পর বাজারে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।