০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

নির্বাচনী রোডম্যাপ চায় বিএনপি, তাড়া নেই জামায়াতের

ইকরা প্রতিদিন
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৪
  • / ৫৮৯ Time View

আনলাইন ডেস্ক :
এখনো এক মাস হয়নি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, ওই ভাষণ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতের মিল থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে তাদের দুই ধরনের বক্তব্য উঠে এসেছে।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ না থাকায় গত সোমবার বিএনপির পক্ষ থেকে এক ধরনের আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনামুখর না হলেও তাদের প্রত্যাশা যে পূরণ হয়নি, নেতাদের বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট।

অন্যদিকে জামায়াত প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সরকারকে সময় দিতে চায় দলটি।

জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
অন্যদিকে চিকিৎসকদের এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদের রক্তের দাগ এখনো শুকাইনি। আহতরা হাসপাতালে হাসপাতারে কাতরাচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচনের চিন্তা দলের নেই।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আন্দোলনে ছিল বিএনপি ও জামায়াত। এবারও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দুই দলের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ছিল।
গত রবিবার জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণে বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। পরে সোমবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে রোডম্যাপ না থাকায় নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি বলে মনে করেন তিনি।

‘কখন নির্বাচন হবে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়’—জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন বক্তব্যের জবাবে সোমবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘এখনো একটা জিনিস ধোঁয়াশা, যেটা আমার পরিষ্কার হয়নি।

অবশ্য প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি হয়েছে বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত সোমবার রাজধানীতে এক কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার সঠিক পথে আছে বলে তাঁরা মনে করেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর যেহেতু ধৈর্য ধরেছেন, আরো কিছুটা সময় ধৈর্য ধারণ করুন। অন্তর্বর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। তাদের এভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখলে তারা কাজ করবে কিভাবে?’

জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা জানান, এখন জনসম্পৃক্ত কাজের দিকে তাঁদের বেশি মনোযোগ। মানুষের কাছাকাছি গিয়ে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে চান তাঁরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনী রোডম্যাপ চায় বিএনপি, তাড়া নেই জামায়াতের

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৪

আনলাইন ডেস্ক :
এখনো এক মাস হয়নি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, ওই ভাষণ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতের মিল থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে তাদের দুই ধরনের বক্তব্য উঠে এসেছে।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ না থাকায় গত সোমবার বিএনপির পক্ষ থেকে এক ধরনের আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনামুখর না হলেও তাদের প্রত্যাশা যে পূরণ হয়নি, নেতাদের বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট।

অন্যদিকে জামায়াত প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সরকারকে সময় দিতে চায় দলটি।

জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
অন্যদিকে চিকিৎসকদের এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদের রক্তের দাগ এখনো শুকাইনি। আহতরা হাসপাতালে হাসপাতারে কাতরাচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচনের চিন্তা দলের নেই।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আন্দোলনে ছিল বিএনপি ও জামায়াত। এবারও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দুই দলের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ছিল।
গত রবিবার জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণে বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। পরে সোমবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে রোডম্যাপ না থাকায় নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি বলে মনে করেন তিনি।

‘কখন নির্বাচন হবে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়’—জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন বক্তব্যের জবাবে সোমবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘এখনো একটা জিনিস ধোঁয়াশা, যেটা আমার পরিষ্কার হয়নি।

অবশ্য প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি হয়েছে বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত সোমবার রাজধানীতে এক কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার সঠিক পথে আছে বলে তাঁরা মনে করেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর যেহেতু ধৈর্য ধরেছেন, আরো কিছুটা সময় ধৈর্য ধারণ করুন। অন্তর্বর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। তাদের এভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখলে তারা কাজ করবে কিভাবে?’

জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা জানান, এখন জনসম্পৃক্ত কাজের দিকে তাঁদের বেশি মনোযোগ। মানুষের কাছাকাছি গিয়ে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে চান তাঁরা।