০২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরো ৪ হত্যা মামলা

ইকরা প্রতিদিন
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪
  • / ৫৮৭ Time View

অন-লাইন ডেক্স : সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন জেলায় মামলা হচ্ছে। গতকাল সোমবারও দেশের অন্তত চার জেলায় করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের আসামি করা হয়েছে।

ঢাকা : গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গতকাল একটি মামলা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সারা দেশে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি, হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাঁদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্যক্তির পাশাপাশি দল-সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকেও আসামি করা হয়েছে মামলায়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মী ও পুলিশের অজ্ঞাতপরিচয় কর্মকর্তা-সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই মামলার আবেদন করেন আন্দোলনে নিহত মিরপুরের দেশ পলিটেকনিক কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার হাসান আলভীর (১৫) বাবা আবুল হাসান। পরে তাঁর আইনজীবী আসাদ উদ্দিন মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দন্ত সংস্থার উপপরিচালক (প্রশাসন) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিনটি অভিযোগ এসেছে। তিনটি অভিযোগই তদন্ত সংস্থা গ্রহণ করে কমপ্লেইন্ট রেজিস্ট্রারভুক্ত করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ কমপ্লেইন্ট রেজিস্ট্রারভুক্ত করার মানে হচ্ছে অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা। আগের দুটি অভিযোগের সঙ্গে এই অভিযোগের তদন্ত করা হবে।

এরই মধ্যে তদন্তকাজ শুরু হয়েছে।’

এ মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্য আসামিরা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কামাল আহমেদ মজুমদার, তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান নিখিল।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরাম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ ১০৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরো ১০০ থেকে  ১৫০ জন আছেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি।

গত রবিবার রাতে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় নিহত ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে এই হত্যা মামলা করেছেন। পাঁচলাইশ থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনে গত ১৬ জুলাই ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশে ওয়াসিম আকরাম পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুরের বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে ছিলেন। বিকেল ৪টায় আসামিদের নির্দেশে সেখানে মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ ও লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক, কিরিচ এবং মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করা হয়। এক পর্যায়ে আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় বুকে ও নাভিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ওয়াসিম।

রংপুর : রংপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকালের করা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত মানিক মিয়ার আইনজীবী আলাউদ্দিন আলমগীর জানান, নিহতের মা নুরজান বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন। শহরের মডার্ন মোড় এলাকায় পুলিশের গুলি ও রাবার বুলেটের আঘাতে ১৯ জুলাই অটোচালক মানিক নিহত হন।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে মাছ ব্যবসায়ী মিলন নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মিলনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম এই মামলা করেন। মিলন সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন। তাঁর গ্র্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকী থানার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটকা গ্রামে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের শিমরাইল মোড় দিয়ে মাছের আড়তে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী মিলন মিয়া ও তাঁর দুই ভাগিনা। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। তখন মিলন মিয়ার বুকে গুলি লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মামলাটির ৬২ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলের মতিউর রহমান মতি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া প্রমুখ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, মাছ ব্যবসায়ী মিলনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ৬২ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১৯টি মামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টি মামলাই হত্যার অভিযোগে। চারটিতে রয়েছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ। আর অন্যটি অপহরণের মামলা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরো ৪ হত্যা মামলা

আপডেট সময় : ১০:৪০:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪

অন-লাইন ডেক্স : সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন জেলায় মামলা হচ্ছে। গতকাল সোমবারও দেশের অন্তত চার জেলায় করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের আসামি করা হয়েছে।

ঢাকা : গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গতকাল একটি মামলা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সারা দেশে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি, হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাঁদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্যক্তির পাশাপাশি দল-সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকেও আসামি করা হয়েছে মামলায়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের অজ্ঞাতপরিচয় নেতাকর্মী ও পুলিশের অজ্ঞাতপরিচয় কর্মকর্তা-সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই মামলার আবেদন করেন আন্দোলনে নিহত মিরপুরের দেশ পলিটেকনিক কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার হাসান আলভীর (১৫) বাবা আবুল হাসান। পরে তাঁর আইনজীবী আসাদ উদ্দিন মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দন্ত সংস্থার উপপরিচালক (প্রশাসন) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিনটি অভিযোগ এসেছে। তিনটি অভিযোগই তদন্ত সংস্থা গ্রহণ করে কমপ্লেইন্ট রেজিস্ট্রারভুক্ত করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ কমপ্লেইন্ট রেজিস্ট্রারভুক্ত করার মানে হচ্ছে অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা। আগের দুটি অভিযোগের সঙ্গে এই অভিযোগের তদন্ত করা হবে।

এরই মধ্যে তদন্তকাজ শুরু হয়েছে।’

এ মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্য আসামিরা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কামাল আহমেদ মজুমদার, তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান নিখিল।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরাম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ ১০৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরো ১০০ থেকে  ১৫০ জন আছেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি।

গত রবিবার রাতে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় নিহত ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে এই হত্যা মামলা করেছেন। পাঁচলাইশ থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনে গত ১৬ জুলাই ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশে ওয়াসিম আকরাম পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুরের বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে ছিলেন। বিকেল ৪টায় আসামিদের নির্দেশে সেখানে মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ ও লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক, কিরিচ এবং মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করা হয়। এক পর্যায়ে আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় বুকে ও নাভিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ওয়াসিম।

রংপুর : রংপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকালের করা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত মানিক মিয়ার আইনজীবী আলাউদ্দিন আলমগীর জানান, নিহতের মা নুরজান বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন। শহরের মডার্ন মোড় এলাকায় পুলিশের গুলি ও রাবার বুলেটের আঘাতে ১৯ জুলাই অটোচালক মানিক নিহত হন।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে মাছ ব্যবসায়ী মিলন নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মিলনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম এই মামলা করেন। মিলন সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন। তাঁর গ্র্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকী থানার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটকা গ্রামে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের শিমরাইল মোড় দিয়ে মাছের আড়তে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী মিলন মিয়া ও তাঁর দুই ভাগিনা। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। তখন মিলন মিয়ার বুকে গুলি লাগে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মামলাটির ৬২ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলের মতিউর রহমান মতি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া প্রমুখ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, মাছ ব্যবসায়ী মিলনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ৬২ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১৯টি মামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টি মামলাই হত্যার অভিযোগে। চারটিতে রয়েছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ। আর অন্যটি অপহরণের মামলা।