০২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স বিএনপি : বহিষ্কার ১০০

ইকরা প্রতিদিন
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৪
  • / ৫৯৪ Time View

অন-লাইন ডেক্স :
দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। দখল লুটপাটের জন্য বহিষ্কারের মতো শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি বেফাঁস মন্তব্য করা নেতাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুুকে বেফাঁস বক্তব্য দেওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেক স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী বিক্ষুব্ধ-বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের নামে জমি, দোকান ও মার্কেট দখল, লুটতরাজ, চাঁদাবাজি এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ নানা ধরনের অভিযোগ পায় কেন্দ্র। এসবের লাগাম টানতে কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিনে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যুবদলের প্রায় ৬০, ছাত্রদলের ১০, বিএনপির ১৫ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন রয়েছেন। এ ছাড়া তিন জেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শাস্তি পাওয়া নেতাদের মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছেনÑ ঢাকা মহানগর, বগুড়া, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, পঞ্চগড়, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, নোয়াখালী, ঝিনাইদহ, লালমনিরহাট ও লক্ষ্মীপুর জেলার। ছাড় দেওয়া হচ্ছে না কেন্দ্রীয় নেতাদেরও। গত রোববার বিএনপির বরিশাল বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশিমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর শুক্রবার নীতি ও আদর্শের চরম পরিপন্থি বক্তব্য দেওয়ায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, শুক্রবার ‘শেখ হাসিনার ছবি প্রচার করলে টিভি-পত্রিকা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে’ মর্মে আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আপনার এই বক্তব্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নীতি ও আদর্শের চরম পরিপন্থি। বিএনপি দেশের একটি উদার ও বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলটি কখনোই দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেয় না। গত ১৫-১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ নিপীড়ন ভোগ করেছে। সম্প্রতি কোমলমতি শিক্ষার্থী ও জনতা নিজেদের জীবন দিয়ে রক্তঝরা আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতন ঘটিয়ে বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রের যে জাগরণ সৃষ্টি করেছে, আপনার বক্তব্য সেটিকেও কালিমালিপ্ত করেছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স বিএনপি : বহিষ্কার ১০০

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৪

অন-লাইন ডেক্স :
দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। দখল লুটপাটের জন্য বহিষ্কারের মতো শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি বেফাঁস মন্তব্য করা নেতাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুুকে বেফাঁস বক্তব্য দেওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেক স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী বিক্ষুব্ধ-বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের নামে জমি, দোকান ও মার্কেট দখল, লুটতরাজ, চাঁদাবাজি এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ নানা ধরনের অভিযোগ পায় কেন্দ্র। এসবের লাগাম টানতে কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিনে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যুবদলের প্রায় ৬০, ছাত্রদলের ১০, বিএনপির ১৫ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন রয়েছেন। এ ছাড়া তিন জেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শাস্তি পাওয়া নেতাদের মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছেনÑ ঢাকা মহানগর, বগুড়া, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, পঞ্চগড়, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, নোয়াখালী, ঝিনাইদহ, লালমনিরহাট ও লক্ষ্মীপুর জেলার। ছাড় দেওয়া হচ্ছে না কেন্দ্রীয় নেতাদেরও। গত রোববার বিএনপির বরিশাল বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশিমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর শুক্রবার নীতি ও আদর্শের চরম পরিপন্থি বক্তব্য দেওয়ায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, শুক্রবার ‘শেখ হাসিনার ছবি প্রচার করলে টিভি-পত্রিকা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে’ মর্মে আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আপনার এই বক্তব্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নীতি ও আদর্শের চরম পরিপন্থি। বিএনপি দেশের একটি উদার ও বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলটি কখনোই দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেয় না। গত ১৫-১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ নিপীড়ন ভোগ করেছে। সম্প্রতি কোমলমতি শিক্ষার্থী ও জনতা নিজেদের জীবন দিয়ে রক্তঝরা আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতন ঘটিয়ে বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রের যে জাগরণ সৃষ্টি করেছে, আপনার বক্তব্য সেটিকেও কালিমালিপ্ত করেছে।’