১০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পার্বতীপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

dailydurbin
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৫১২ Time View

 দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ছোট চন্ডিপুর এলাকায় সংঘটিত মা-মেয়ের চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনরা। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে পার্বতীপুর পৌর শহরের বালিকা বিদ্যাপিঠ বিদ্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিহত ছবি রানী (৩৮) ও তার কিশোরী মেয়ে পল্লবী রানীর (১৫) পরিবার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে নিহত ছবি রানীর বড় ভাই শ্রী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, “এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”লিখিত বক্তব্যে স্বজনরা সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছবি রানীর স্বামী রিপেন চন্দ্র। শুধু তাই নয়, রিপেন চন্দ্রের পরকীয়া প্রেমিকা নমিতা রানী এবং স্থানীয় সহযোগী গৌতম চন্দ্র রায় ও বিপুল চন্দ্র রায় মিলে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেছে। রিপেন চন্দ্র তার পরকীয়া প্রেমিকাকে ঘরে তোলার উদ্দেশ্যেই মা ও মেয়েকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যার নাটক হিসেবে সাজিয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।লিখিত বক্তব্যে উজ্জ্বল চন্দ্র আরও জানান, এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে ছবি রানীর স্বজনেরা চরম আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের কাছে তাদের জোর দাবি— অতি দ্রুত এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছবি রানীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী স্বপ্না রানী এবং মামাতো বোন সাধনা রানী। তারা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার প্রাপ্তিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই বিকেলে উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চন্ডিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছবি রানী ও তার নবম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে পল্লবী রানীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। প্রাথমিক পর্যায়ে একে আত্মহত্যা ধারণা করা হলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পার্বতীপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

 দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ছোট চন্ডিপুর এলাকায় সংঘটিত মা-মেয়ের চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনরা। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে পার্বতীপুর পৌর শহরের বালিকা বিদ্যাপিঠ বিদ্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিহত ছবি রানী (৩৮) ও তার কিশোরী মেয়ে পল্লবী রানীর (১৫) পরিবার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে নিহত ছবি রানীর বড় ভাই শ্রী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, “এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”লিখিত বক্তব্যে স্বজনরা সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছবি রানীর স্বামী রিপেন চন্দ্র। শুধু তাই নয়, রিপেন চন্দ্রের পরকীয়া প্রেমিকা নমিতা রানী এবং স্থানীয় সহযোগী গৌতম চন্দ্র রায় ও বিপুল চন্দ্র রায় মিলে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেছে। রিপেন চন্দ্র তার পরকীয়া প্রেমিকাকে ঘরে তোলার উদ্দেশ্যেই মা ও মেয়েকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যার নাটক হিসেবে সাজিয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।লিখিত বক্তব্যে উজ্জ্বল চন্দ্র আরও জানান, এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে ছবি রানীর স্বজনেরা চরম আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের কাছে তাদের জোর দাবি— অতি দ্রুত এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছবি রানীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী স্বপ্না রানী এবং মামাতো বোন সাধনা রানী। তারা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার প্রাপ্তিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই বিকেলে উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চন্ডিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছবি রানী ও তার নবম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে পল্লবী রানীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। প্রাথমিক পর্যায়ে একে আত্মহত্যা ধারণা করা হলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।