১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ

dailydurbin
  • আপডেট সময় : ১১:২১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৫১১ Time View

 নকলা প্রতিনিধি :  শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. উম্মে রাকিবা জাহান মিতুর বদলির ফলে হাসপাতালটির গাইনি বিভাগ কার্যত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়েছে। নতুন করে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নারী রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রাফায়েত হোসেন সৌরভ।

 

তিনি বলেন, “আমাদের একমাত্র গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. উম্মে রাকিবা জাহান মিতুর বদলি হয়েছে। নতুন করে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিভাগের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকছেন না।”

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩২ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া এবং সহকারী অধ্যাপক পদে পদন্নোতি পাওয়া চিকিৎসক ডা. উম্মে রাকিবা জাহান মিতু এমবিবিএস ও এমএস (গাইনি অ্যান্ড অবস) ডিগ্রিধারী। তাঁর তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা, ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা, জরুরি প্রসূতি সেবা এবং অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।

 

উল্লেখ্য, নকলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৪৭ বছর পর প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয় ২০২৫ সালের ২৮ জুন। ওই দিন এক প্রসূতির সফল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে এ সেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রথম সেই সিজারিয়ান অপারেশনটি সম্পন্ন করেন গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. উম্মে রাকিবা জাহান মিতু। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতালটিতে একের পর এক সফল সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং স্থানীয় গর্ভবতী মায়েরা নিজ উপজেলাতেই বিশেষজ্ঞ প্রসূতি সেবা পাওয়ার সুযোগ লাভ করেন। তবে তাঁর বদলির ফলে নতুন কোনো গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সিজারিয়ান অপারেশনসহ বিশেষায়িত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এছাড়াও, তাঁর বদলির পর হাসপাতালটিতে গাইনি বিভাগের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য নারী রোগীকে হয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হবে, নয়তো জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ছুটতে হবে। এতে সময়, অর্থ এবং ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিশেষ করে জরুরি প্রসূতি সেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তাই স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রত্যাশীরা দ্রুত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন দক্ষ গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

 

তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে নকলা উপজেলার হাজারো নারী ও গর্ভবতী মায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত না হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:২১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

 নকলা প্রতিনিধি :  শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. উম্মে রাকিবা জাহান মিতুর বদলির ফলে হাসপাতালটির গাইনি বিভাগ কার্যত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়েছে। নতুন করে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নারী রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রাফায়েত হোসেন সৌরভ।

 

তিনি বলেন, “আমাদের একমাত্র গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. উম্মে রাকিবা জাহান মিতুর বদলি হয়েছে। নতুন করে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিভাগের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকছেন না।”

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩২ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া এবং সহকারী অধ্যাপক পদে পদন্নোতি পাওয়া চিকিৎসক ডা. উম্মে রাকিবা জাহান মিতু এমবিবিএস ও এমএস (গাইনি অ্যান্ড অবস) ডিগ্রিধারী। তাঁর তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা, ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা, জরুরি প্রসূতি সেবা এবং অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।

 

উল্লেখ্য, নকলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৪৭ বছর পর প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয় ২০২৫ সালের ২৮ জুন। ওই দিন এক প্রসূতির সফল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে এ সেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রথম সেই সিজারিয়ান অপারেশনটি সম্পন্ন করেন গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. উম্মে রাকিবা জাহান মিতু। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতালটিতে একের পর এক সফল সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং স্থানীয় গর্ভবতী মায়েরা নিজ উপজেলাতেই বিশেষজ্ঞ প্রসূতি সেবা পাওয়ার সুযোগ লাভ করেন। তবে তাঁর বদলির ফলে নতুন কোনো গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সিজারিয়ান অপারেশনসহ বিশেষায়িত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এছাড়াও, তাঁর বদলির পর হাসপাতালটিতে গাইনি বিভাগের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য নারী রোগীকে হয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হবে, নয়তো জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ছুটতে হবে। এতে সময়, অর্থ এবং ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিশেষ করে জরুরি প্রসূতি সেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তাই স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রত্যাশীরা দ্রুত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন দক্ষ গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

 

তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে নকলা উপজেলার হাজারো নারী ও গর্ভবতী মায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত না হয়।