১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পীরগাছায় স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ

dailydurbin
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৫১৩ Time View

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগাছায় প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে নির্মাণশ্রমিকদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পীরগাছা-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অভিযোগ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

‎জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিএমএনবিসি (জেবি) লি., রাজবাড়ী কাজটি ঢাকার মুন্তাহা বিল্ডার্সের কাছে সাব-কন্ট্রাক্টে দিয়েছে। এরপর থেকেই নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, ভিটি মাটি, অপর্যাপ্ত সিমেন্ট এবং সিডিউল বহির্ভূত রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

‎জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১২ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা মুকুলের অভিযোগ, পাইলিং ও দেয়াল নির্মাণে বালুর পরিবর্তে ভিটি মাটি এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়। পরে হামলায় চারজন আহত হন বলেও দাবি করেন তিনি।

‎প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের ইট ও মানহীন সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে স্থানীয়দের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি চুক্তিপত্রও দেখাতে অনীহা প্রকাশ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

‎আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফফারের দাবি, পাইলিংয়ের রডের বালা তৈরিতে ১২ মিলিমিটার রড ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ৮ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হয়েছে।

‎এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামসংলগ্ন পীরগাছা-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

‎খবর পেয়ে পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে অভিযোগ তদন্ত এবং আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

‎তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকল্প প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‎পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মালিক বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

‎পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পীরগাছায় স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগাছায় প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে নির্মাণশ্রমিকদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পীরগাছা-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অভিযোগ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

‎জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিএমএনবিসি (জেবি) লি., রাজবাড়ী কাজটি ঢাকার মুন্তাহা বিল্ডার্সের কাছে সাব-কন্ট্রাক্টে দিয়েছে। এরপর থেকেই নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, ভিটি মাটি, অপর্যাপ্ত সিমেন্ট এবং সিডিউল বহির্ভূত রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

‎জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১২ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা মুকুলের অভিযোগ, পাইলিং ও দেয়াল নির্মাণে বালুর পরিবর্তে ভিটি মাটি এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়। পরে হামলায় চারজন আহত হন বলেও দাবি করেন তিনি।

‎প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের ইট ও মানহীন সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে স্থানীয়দের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি চুক্তিপত্রও দেখাতে অনীহা প্রকাশ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

‎আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফফারের দাবি, পাইলিংয়ের রডের বালা তৈরিতে ১২ মিলিমিটার রড ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ৮ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হয়েছে।

‎এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামসংলগ্ন পীরগাছা-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

‎খবর পেয়ে পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে অভিযোগ তদন্ত এবং আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

‎তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকল্প প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‎পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মালিক বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

‎পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।